হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দুই পক্ষের সংঘাত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেছে সানা-সমর্থিত সূত্রগুলো।
রিয়াদের আরামকো স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা এবং সৌদি আরবের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযানের মাধ্যমে ইয়েমেন তাদের প্রতিরোধের পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে।
রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে হামলা, নতুন সমীকরণের দাবি
সানা ও ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকায় সৌদি বিমান হামলার জবাবে ইয়েমেনি বাহিনী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি, সেনা সমাবেশকেন্দ্র এবং তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের ঘোষিত লক্ষ্যভাণ্ডার দক্ষিণ সৌদি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে জিজান, ইয়ানবু, জেদ্দা, আবহা, নাজরান এবং পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকে বিস্তৃত হয়েছে। এর সর্বশেষ পর্যায়ে রিয়াদও সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে সামনে এসেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে তাসনিম বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অবরোধের বিপরীতে অবরোধ, উত্তেজনার বিপরীতে উত্তেজনা এবং রাজধানীর বিপরীতে রাজধানী’ সমীকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের মতে, ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গোয়েন্দা সক্ষমতার বিকাশের ফলে আরও স্পর্শকাতর স্থাপনা লক্ষ্য করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদনে সানা-ঘনিষ্ঠ সামরিক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে হামলা সৌদি আরবের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সানা সরকারের ঘনিষ্ঠ সামরিক বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার মুজিব শামসানের দাবি, রিয়াদের আরামকো স্থাপনাকে লক্ষ্য করা সৌদি আরবের ধারাবাহিক হামলার জবাব। তাঁর মতে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের সৌদি প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় সংঘাত এখন ‘রাজধানীর বিপরীতে রাজধানী’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আরামকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সৌদি আরবের অর্থনীতি, উৎপাদন ও তেল রপ্তানির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সৌদি অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর দাবি
ইয়েমেনি সামরিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, তেলক্ষেত্র এবং রপ্তানি অবকাঠামো লক্ষ্য করার মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইয়েমেনি পক্ষ মনে করে সৌদি আরবের অব্যাহত বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হতে পারে।
লক্ষ্যভাণ্ডারে নতুন স্থাপনা যুক্ত করার দাবি
আরেক ইয়েমেনি সামরিক বিশ্লেষক আলী আবি রাদ দাবি করেছেন, রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার নির্ভুলতা কয়েক মাস ধরে পরিচালিত গোয়েন্দা কার্যক্রমের ফল।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে বিস্তৃত লক্ষ্যভাণ্ডার রয়েছে। এর মধ্যে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবকাঠামোও রয়েছে।
এর আগে সানা-সমর্থিত বাহিনী সৌদি আরবের অভ্যন্তরে গোয়েন্দা ও সামরিক কমান্ডকেন্দ্রসহ নতুন কিছু স্থাপনাকে তাদের লক্ষ্যভাণ্ডারে যুক্ত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।
সংঘাত কি আরও বিস্তৃত হচ্ছে?
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে দেখা যাচ্ছে, ইয়েমেন-সৌদি সংঘাত কেবল ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকছে না; সৌদি আরবের অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও পাল্টা হামলার আলোচনায় উঠে আসছে।
সৌদি আরব ইয়েমেনে সামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিধি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সানা-সমর্থিত বাহিনীও সৌদি ভূখণ্ডে পাল্টা হামলার পরিধি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সানা-সমর্থিত পক্ষের বক্তব্য হলো, ইয়েমেনে সৌদি হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলার পরিধিও বাড়ানো হবে।
সানার বার্তা: হামলা অব্যাহত থাকলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ইয়েমেনি পক্ষের সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ইয়েমেনে অভিযান অব্যাহত রাখলে সৌদি ভূখণ্ডের আরও গভীরে পাল্টা হামলার ঝুঁকি রয়েছে।
সানা ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার মাত্রা সম্পর্কে বার্তা দিয়েছে এবং ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে নতুন ধরনের অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তবে এসব দাবি ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত; ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যকে তাদের নিজস্ব অবস্থান ও দাবি হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
আপনার কমেন্ট